নৈশ ক্লাবে ভয়াবহ আগুন লেগেছিল। ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার আন্দ্রেজ লাজারভ নিজের জীবনের পরোয়া করেননি। নৈশ ক্লাবের ভেতরে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত লাজারভ আর বেঁচে ফিরতে পারেননি।
উত্তর মেসিডোনিয়ার কোচানিতে পালস ক্লাবে গতকাল এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। অফিশিয়ালদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেইল অনলাইন জানিয়েছে, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৫৯, আহত আরও ১৫৫। লাজারভ উত্তর মেসিডোনিয়ার শীর্ষ লিগের ক্লাব এফসি স্কোপাইয়ের মিডফিল্ডার ছিলেন।
ক্লাবটির পক্ষ থেকে নিজেদের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা শোকবার্তায় লেখা হয়, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে আমরা জানাচ্ছি যে আমাদের ফুটবলার আন্দ্রেজ লাজারভ কোচানিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকারদের একজন। আগুনের শিখা থেকে বাকিদের বাঁচাতে গিয়ে লাজারভ তাঁর জীবন হারিয়েছেন। এই সাহসী কাজের সময় ধোঁয়ার কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চূড়ান্ত মুহূর্তে তাঁর এই সাহসিকতা ও মানবিকতা সব সময় স্মরণ রাখা হবে।’
মেসিডোনিয়ার অনূর্ধ্ব–১২ দলে খেলা লাজারভ গত সেপ্টেম্বরে স্কোপাইয়ে যোগ দেন। এর আগে খেলেন ক্রোয়েশিয়ার ক্লাব এইচএনকে গোরিকায়। রাজধানী স্কোপাই থেকে ১০০ কিলোমিটার পুবের শহর কোচানির পালস ক্লাবে এ ঘটনায় অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা দ্রুত ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
মেসিডোনিয়ান হিপহপ ব্যান্ড ডিএনকের সেখানে কনসার্ট ছিল। হাজারখানেক মানুষ এই কনসার্ট দেখতে সেখানে জমায়েত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে মেইল অনলাইন। উত্তর মেসিডোনিয়ার বার্তা সংস্থা মিয়া.এমকে জানিয়েছে, ডিএনকে ব্যান্ডের মূল গায়ক আন্দ্রেস জর্জিওস্কিসহ ব্যান্ডের চিত্রগ্রাহক, আরেকজন গায়ক, ড্রামার ও কি–বোর্ড বাদকও আগুনে মারা গেছেন।
অনলাইন মিডিয়া আউটলেট এসডিকের বরাত দিয়ে মেইল অনলাইন জানিয়েছে, কনসার্ট শুরু হয় মধ্যরাতে আর আগুন লেগেছে আনুমানিক স্থানীয় সময় রাত তিনটার দিকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভয়াবহ আগুনের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
কনসার্টের ভেন্যুর ভেতরকার ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, মঞ্চে আতশবাজির জন্য পাইরোটেকনিকস ব্যবহার করা হয়, যা দাহ্য পদার্থ। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যান্স টসকোভস্কি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে পাইরোটেকনিকস থেকে অগ্নিশিখা মঞ্চের সিলিংয়ে পৌঁছে গিয়েছিল, যেটা খুবই দাহ্য পদার্থ দিয়ে বানানো। বিবিসির ভেরিফাই করা ফুটেজে দেখা গেছে, সিলিংয়ের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন কনসার্টের উপস্থিতরা। জীবন বাঁচাতে হুড়াহুড়ি ও দৌড়াদৌড়িও করছেন তাঁরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাজারভকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ফুটবলপ্রেমীরা। একজন লেখেন, ‘সত্যিকারের নায়ক।’ আরেকজন লেখেন, ‘সত্যিকারের নায়কেরা সাহসী হন।’ অন্য এক ফুটবলপ্রেমী লেখেন, ‘তুমি অন্যদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে মারা গিয়েছ। এটাই সাহসিকতার সংজ্ঞা।’